মুম্বই, ১৭ জুলাই। বিমান অবতরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় মুম্বইয়ের ৭০টি বহুতলের উচ্চতা কমানোর নির্দেশ জারি করল নারগরিক উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টর অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন। সপ্তাহকয়েক আগে জারি এই নির্দেশিকায় বিপাকে পড়েছেন বহুতলগুলির কয়েক হাজার মানুষ।

বিষয়টি বুঝতে আগে মুম্বই এয়ারপোর্টের অবস্থান ও রানওয়ের অভিমুখ জানা দরকার। 

মুম্বই বিমানবন্দর শহরের প্রায় মাঝখানে অবস্থিত। উলটো দিকে দিল্লি, বেঙ্গালুরু বা দমদম বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে শহরের বাইরের দিকে। ফলে এখানে নতুন বহুতল তৈরির সময় DGCA-র কাছ থেকে উচ্চতার ছাড়পত্র নিতে হয়। কিন্তু মুম্বই বিমানবন্দরের বিমান অবতরণের ‘রাস্তা’‍র নীচে ‌যখন বহুতল তৈরি হয়েছিল তখন অনুমতি দিত এয়াপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। অভি‌যোগ, সেই সময় ব্যাপক দুর্নীতির ফলে বেশি উচ্চতার ছাড়পত্র জোগাড় করে ফেলেছেন অনেক নির্মাতা। ‌যার ফলে ঝুঁকি নিয়ে অবতরণ করতে হচ্ছে বহু বিমানকে।

এছাড়া রয়েছে আরও একটি সমস্যা। মুম্বই বিমানবন্দরে রয়েছে দু’‍টি রানওয়ে। কিন্তু রানওয়ে দু’‍টি একে অপরের সঙ্গে আড়াআড়িভাবে X এর মতো করে অবস্থিত। স্থানাভাবের জন্য বহু বিমানবন্দরেই এমনভাবে রানওয়ে তৈরি করা হয়। এই ধরণের বিমানবন্দরে একসঙ্গে দু’‍টি রানওয়ে ব্যবহার করা ‌যায় না।

মুম্বই বিমানবন্দরের রানওয়ে দু’‍টির মূল রানওয়েটি (২৭ – ০৯) ঠিক পূর্ব – পশ্চিম মুখী। বিমান সাধারণত অবতরণ করে ও উড়ান শুরু করে পশ্চিমদিকে মুখ করে। আর সমস্যা এখানেই। বিমান আতরণের রাস্তায় রয়েছে বিস্তীর্ণ বসতি। ভিকরৌলি, ঘাটকোপর হয়ে বিমানবন্দর প‌র্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে চার কিলোমিটার পথে রয়েছে একাধিক বহুতল।

ডিজিসিএর তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত ৭০টি বহুতলের উচ্চতা ৩ থেকে ৬ মিটার প‌র্যন্ত কমাতে হবে। ৩ মিটার মানে ১০ ফুট মানে একটি তল। ৬ মিটার উচ্চতা কমাতে গেলে ভাঙতে হবে ২টি তল। অগাস্টের মধ্যে ভাঙতে হবে নির্মাণ। নোটিশ পেয়ে ওইসব তলের আবাসিকরা চোখে অন্ধকার দেখছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বহু বৃদ্ধ দম্পতিও। তাঁদের প্রশ্ন, এই বুড়ো বয়সে কি আর নতুন করে ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব? এখানেই শেষ নয়। সূত্রের খবর, ডিজিসিএ-র নজরদারিতে রয়েছে আরও ৪৫টি বহুতল।

কিন্তু কোনও ‌যুক্তিই মানতে নারাজ ডিজিসিএ। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, ওই বহুতলগুলির জন্য বিমান অবতরণে সমস্যা হচ্ছে। ফলে ভবনের উচ্চতা কমাতেই হবে।

তবে শুধু মুম্বই নয়, একই রকম সমস্যা রয়েছে দমদম নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। এক্ষেত্রে বিমানের অবতরণের রাস্তার ওপর পড়ে মধ্যমগ্রাম ও নব ব্যারাকপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। অভি‌যোগ, এখানেও বিমান অবতরণের রাস্তায় একাধিক বহুতল আইন না মেনে গড়ে উঠেছে। অভি‌যোগ রয়েছে দুর্নীতিরও।

এছাড়া ধর্মতলায় নির্মিয়মান একটি গগনচুম্বী বহুতল নিয়ে আপত্তি রয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের। ওই বহুতলটি বিমান ওঠা – নামার রাস্তায় না পড়লেও সেটি এতই উঁচু ‌যে বিমানবন্দরের র‍্যাডার আটকে ‌যাচ্ছে। ফলে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলাররা কলকাতার আকাশসীমার একটি অংশ দেখতেই পাচ্ছেন না। সেখানে দু’‍টি বিমান মাঝ আকাশে মুখোমুখি হয়ে গেলে কিছুই করার থাকবে না তাদের।

মুম্বইয়ে ডিজিসিএ ‌যে কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা শেষ প‌র্যন্ত কা‌র্যকর হলে রাতের ঘুম ছুটবে কলকাতা ও লাগোয়া এলাকার অনেক প্রোমোটার ও আবাসিকের।