৩০ নভেম্বর। নোট বাতিলের বিরোধিতায় মমতার রাজনৈতিক ঐক্যমত তৈরির চেষ্টার গঙ্গাপ্রাপ্তি ঘটার পর রাজ্যগুলিকে অর্থনৈতিক দিক থেকে একজোট করার প্রক্রিয়া শুরু করল তৃণমূল। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের কথায় অন্তত তেমন আভাসই মিলেছে।

নোট বাতিলের পর দু’‍বার দিল্লির চক্কর কাটা হয়ে গিয়েছে মমতা। বুধবারই উত্তর প্রদেশ ও বিহার সফর সেরে ফিরেছেন এরাজ্যে। ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা, দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, মমতার কোনও পদক্ষেপই নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারেনি প্রধানমন্ত্রীকে। আর তাৎপ‌র্যপূর্ণভাবে এদিন সন্ধ্যাতেই এনডিটিভিতে বরখা দত্তকে দেওয়া এক সাক্ষাৎতকারে জিএসটি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে অসহ‌যোগিতার পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন অমিত মিত্র।

এদিন বরখাকে পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নোট বাতিলের ফলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। ‌যার ফলে প্রচুর রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে রাজ্যগুলির। তেলেঙ্গানা হিসাব করে দেখেছে তাদের ২০ শতাংশ রাজস্ব ক্ষতি হতে চলেছে। এর ওপর জিএসটি লাগু হলে  আরও অস্থিরতা তৈরি হবে।’‍

বলে রাখি জিএসটি কমিটির সদস্য রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। জিএসটির খসড়া তৈরি করতে ‌রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে ‌যে কমিটি তৈরি হয়েছিল তার সভাপতি ছিলেন অমিত মিত্র। এদিন তিনি বলেন, ‘আমি ‌যখন কমিটির সভাপতি হিসাবে জিএসটি লাগুর পরামর্শ দিয়েছিলাম তখন নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানা ছিল না। ফলে এখন ফের কমিটির সদস্যদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।’‍

রাজনৈতিক মহলের মতে, জিএসটিতে সমর্থন দিয়ে মোদী সরকারকে সখ্যতার বার্তা দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু তার পালটা কোনও বার্তা তো আসেই নিয়ে উলটে নোট বাতিল নিয়ে মমতার দাবিতে কর্ণপাতও করেননি প্রধানমন্ত্রী। এই অবস্থায় জিএসটি সমর্থন করে হাত কামড়াচ্ছে তৃণমূল। কারণ জিএসটি আইনের রূপ নেওয়ার পর এখন অস‌হ‌যোগিতা ছাড়া তেমন কিছু করার নেই তাদের।