১ ডিসেম্বর। বুধবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘খুনের ষড়‌যন্ত্র’‍-এর অভি‌যোগে শোরগোল পড়েছে রাজধানী দিল্লিতেও। শুরু হয়েছে তদন্ত। কিন্তু বৃহস্পতিবার গোটা ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মুখ্যমন্ত্রীকে খুনের চেষ্টার ‌যে অভি‌যোগ তোলা হচ্ছে তাতে সমর্থন করতে পারছেন না অভিজ্ঞ পাইলটরা। তাঁদের মতে, অহেতুক বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করছে তৃণমূল।

বুধবার সন্ধ্যায় মমতা কলকাতায় ফেরার পর পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম অভি‌যোগ করেন, পটনা থেকে দমদম বিমানবন্দরগামী ওই বিমানকে দীর্ঘক্ষণ আকাশে চক্কর কাটতে বাধ্য করেছিল দমদম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তাঁর দাবি, পাইলট বিমানবন্দরকে বিমানে জ্বালানি কম আছে বলে জানালেও সেটিকে নামার জন্য ব্যবস্থা করে দেয়নি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। অবতরণের সময় রানওয়ের পাশে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি দেখে তাঁরা বুঝতে পারেন জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এর পরই মমতাকে খুনের চেষ্টার অভি‌যোগে সরব হন ফিরহাদ।

পাইলটদের মতে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক ও ভারতে বিমান পরিবহনের নিয়ামক সংস্থা DGCA ‌যে তথ্য দিয়েছে তাতে শঙ্কিত হওয়ার মতো কিছুই ছিল না। উলটে বিচক্ষণের মতো পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলাররা।

DGCA-র দেওয়া তথ্য অনুসারে ১৩ মিনিট কলকাতার আকাশে চক্কর কাটতে হয়েছিল মমতার বিমানকে। ‌পাইলটদের মতে এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ, মমতা বুধবার ‌যখন কলকাতায় পৌঁছেছিলেন তখন বিমানবন্দরে প্রচণ্ড চাপ থাকে। দমদম বিমানবন্দর থেকে প্রায় প্রতি ৩ মিনিটে একটি করে বিমান টেক অফ বা ল্যান্ডিং করে তখন। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার আকাশে অনেক সময় ৪০ মিনিট প‌র্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় অবতরণের ছাড়পত্র পেতে। মুম্বই বা দিল্লি এয়ারপোর্টে অনেক সময় ১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর অবতরণ করা ‌যায়।

এই সব পরিস্থিতির কথা ভেবে অতিরিক্ত জ্বালানি নিয়েই উড়ান শুরু করে বিমানগুলি। শুধু শহরের আকাশে চক্কর কাটাই নয়, কোনও কারণে বিমানবন্দরে অবতরণ করা না-গেলে নিকটবর্তী বিমানবন্দর প‌র্যন্ত ‌যাওয়ারও জ্বালানি সঞ্চিত থাকে বিমানে। ফলে প্র‌যুক্তিগত ত্রুটি না থাকলে জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়েছে বলে বিপদ হতে পারে না কোনও বিমানের। বুধবার সন্ধ্যায় ATC ‌যা করেছে তা আপাতদৃষ্টিতে বিধিনিষেধ লঙ্ঘিত হয়নি বলেই মনে হচ্ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন পাইলটরা।