জম্মু, ২৯ নভেম্বর। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক থেকে শিক্ষা নেয়নি পাকিস্তান। ফের উরির কায়দায় জঙ্গি হামলা জম্মু-কাশ্মীরে। এবার জম্মু শহরের কাছে নগরোটায় সেনা ক্যাম্পে সশস্ত্র জঙ্গিহামলায় শহিদ হলে ৭ সেনানি।

মঙ্গলবার ভোররাতে নগরোটায় জাতীয় সড়কের পাশে সেনাক্যাম্পে ঢোকে সশস্ত্র জঙ্গিরা। এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে চালাতে অফিসারদের আবাসনে ঢুকে পড়ে তারা। জঙ্গিরা গ্রেনেডও ছোড়ে বলে জানা গিয়েছে। সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত ৩ জঙ্গির দেহ এখনো প‌র্যন্ত উদ্ধার হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

সেনার তরফে জানানো হয়েছে, সেনাক্যাম্পের মধ্যে একটি আবাসনে সেনাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্য-সহ মোট ১২ জনকে পণবন্দি করে ফেলেছিল জঙ্গিরা। তাদের মুক্ত করে সেনা।

এদিন আগে থেকে সতর্ক জওয়ানরা জঙ্গিদের উপ‌যুক্ত জবাব দেন। ফলে মৃত্যু হয় ৩ জঙ্গিরই।

জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ের ওপর নগরোটা বৈষ্ণোদেবী ‌যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এদিনের হামলার পর বৈষ্ণোদেবী ‌যাত্রার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হামলার খবর পেতেই জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়েতে ‌যানচলাচল বন্ধ করে দেয় সেনা।

ওদিকে নগরোটা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে সাম্বা সেক্টরের চামলিয়ায় অনুপ্রবেশ রুখতে গিয়ে শহিদ হয়েছেন বিএসএফের এক পদস্থ কর্তা। খতম করা হয়েছে ৪ জঙ্গিকে।

দু’‍টি ঘটনার খবরই প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পর্রীকর। তবে প্রশ্ন উঠছে, ফের উরির কায়দায় হামলা ও নিয়ন্ত্রণরেখায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা, তাহলে সেপ্টেম্বরের শেষের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কা‌র্যকারিতা তবে কী? পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা ঘেঁষা অংশ ‌যে এখনো সন্ত্রাসবাদীদেরই দখলে সেব্যাপারে নিঃসংশয় করল এদিনের জোড়া হামলা।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের নতুন সেনাপ্রধান দায়িত্ব নেওয়ার দিন এই হামলা বৃহত্তর তাৎপ‌র্য রয়েছে।