বসিরহাট, ১৭ জুলাই। বসিরহাটের অশান্তির নেপথ্যে অনুমোদনহীন বা খারিজি মাদ্রাসাগুলির ভূমিকা আতচকাঁচের তলায় চলে এসেছে। ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে চলতি মাসের শুরুতেই অশান্ত হয়ে ওঠে বাদুড়িয়া, বসিরহাট ও সংলগ্ন এলাকা। স্থানীয়রা বহিরাগতদের দিকে আঙুল তুলছেন। তবে পুলিশ মনে করছে, এর পিছনে খারিজি মাদ্রাসাগুলির ভূমিকা রয়েছে।(আরও পড়ুন- বাদুড়িয়ায় পুলিশকে কীভাবে নিধিরাম করে দিয়েছিল রাজ্য সরকার? ক্ষোভ নিচুতলায়)

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনের দাবি, স্থানীয় পুলিশ মনে করছে, খারিজি মাদ্রাসাগুলির ভূমিকা অস্বীকার করা ‌যায় না। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র সূত্রে খবর, পঠনপাঠনের আড়ালে খারিজি মাদ্রাসাগুলিতে চরমপন্থার শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি বাধাতে হবে, তা জঙ্গি নেতারা শিখিয়ে দিচ্ছে পড়ুয়াদের। বাংলাদেশ থেকেই তারা এরাজ্যে আসছে। বসিরহাটে ঘোড়ারস ও খোলাপোতায় দুটি মাদ্রাসা ও বাদুড়িয়ার একটি মাদ্রাসার নাম উঠে আসছে। (আরও পড়ুন- বসিরহাটে আক্রান্তদের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে ঝাঁটার বাড়ি খেয়ে ফিরলেন তৃণমূল বিধায়ক দীপেন্দু)

অনুমোদন ছাড়াই চলে খারিজি মাদ্রাসাগুলি। এই মাদ্রাসগুলিই হয়ে উঠছে পুলিশের মাথাব্যাথার কারণ। পুলিশ সূত্রে খবর, রাজ্যে ৬০০০টি মাদ্রাসা রয়েছে। তার মধ্যে ৯০ শতাংশেরই সরকারি অনুমোদন নেই। বসিরহাট ও সংলগ্ন এলাকায় এই ধরণের প্রায় ৬০০টি মাদ্রাসা রয়েছে। ২০১৪ সালে খাগড়াগড়ের পরই শিমুলিয়া খারিজি মাদ্রাসার খোঁজ মিলেছিল। সেখানে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হত।(আরও পড়ুন- বসিরহাটে একের পর এক তৃণমূলের দলীয় অফিস গুঁড়িয়ে দিলেন দলের কর্মীরাই)

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কলকাতার সম্পাদক সচিন সিনহার কথায়, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মাদ্রাসাগুলি বন্ধের দাবি করে আসছি।” আরএসএস-এর মুখপাত্র বিপ্লব পাল বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষায় আধুনিকতা আনতে হবে। মাদ্রাসাগুলি জেহাদি কাজকর্মের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে।” ২০০২ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচা‌র্যও মাদ্রাসা নিয়ে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ২৭ শতাংশ ভোটের দিকে চেয়ে বাম জমানাতেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। (আরও পড়ুন- গত ৭ দিনে বসিরহাটে ‘বিস্তারক ‌যোজনা’য় বিজেপিতে ‌যোগ দিলেন ১০,০০০ জন)

বর্তমান পত্রিকায় লেখা হয়েছে, নব্য জেএমবি চাঙ্গা হওয়ার পর আবার এই অনুমোদনহীন মাদ্রাসাগুলি নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। পড়াশুনার আড়ালে জেহাদি তৈরি করা হচ্ছে। বিভিন্ন রকম জাল ভিডিও দেখানো হচ্ছে। কমবয়সি পড়ুয়াদের মগজধোলাই চলছে। দুটি দল তৈরি করা হয়েছে। একটি দল প্রথমে উস্কানিমূলক ছবি ও ভিডিও দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। অন্যদল স্থানীয়দের নিয়ে হামলা চালাচ্ছে। বসিরহাটের ঘটনায় হামলাকারীদের মধ্যে অনুমোদনহীন মাদ্রাসার পড়ুয়ারা ছিল বলেও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে খবর।(আরও পড়ুন- বসিরহাটে হামলাকারীদের ছেড়ে কি ফেসবুকে ‌পোস্ট করার দায়ে ‌ধরবে প্রশাসন? মমতার ঘোষণায় উঠছে প্রশ্ন)