কলকাতা, ১০ ডিসেম্বর। অবশেষে কলকাতা পুর এলাকায় জলের সং‌যোগে বসতে চলেছে মিটার। মিটার না বসালে প্রকল্পের টাকা মেলা অসম্ভব বুঝে মিটার বসানোর সম্মতি দিয়েছে কলকাতা পুর বোর্ড। এশিয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের টাকায় প্রথম প‌র্যায়ে মিটার বসবে উত্তর কলকাতার কাশীপুরের ২৫,০০০ সং‌যোগে। মিটার বসলেও জলকর বসার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত কলকাতা পুর বোর্ড।

বরাবরই জলকরের বিরোধী তৃণমূল সরকার। কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের বার বার সুপারিশ সত্বেও জলকর বসায়নি তারা। সরকারের এই জনমোহিনী নীতির ফলে অহরহ অপচয় হচ্ছে জল। এশিয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের টাকায় ‌যে সংস্থা কাশীপুর এলাকায় মিটার বসানোর কাজের বরাত পেয়েছে তাদের সমীক্ষা, ওই এলাকার ৬টি ওয়ার্ডের ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ জলসরবরাহ ব্যবস্থায় ৬০ শতাংশ জলই অপচয় হয়।

এজন্য ‌কাশীপুর এলাকার শতাব্দীপ্রাচীন জলসরবরাহ ব্যবস্থাকে দায়ী করা হয়েছে সমীক্ষায়। কাশীপুর এলাকার ব্রিটিশ আমলের পাইপ চুঁইয়ে প্রচুর জল বেরিয়ে ‌যায়। পাইপের ফাটল থেকেও লিক হতে থাকে জল। ফলে ওই এলাকার গোটা জলসরবরাহ ব্যবস্থা নতুন করে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে পুরসভা। এশিয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের কাছ থেকে বরাদ্দও মিলেছে। সুয়েন এনভায়রনমেন্ট ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড নামে এক সংস্থাকে বরাতও দিয়ে দিয়েছে পুরসভা। কিন্তু এশিয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের একটাই শর্ত, জলের মিটার লাগালে তবেই মিলবে পয়সা। অগত্যা তেতো ওষুধ গেলার মতো মিটার বসাতে হচ্ছে শোভনবাবুদের।

এই প্রকল্পের মোট বরাদ্দ প্রায় ২১৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় পুরনো পাইপ বদল ছাড়াও প্রতিটি সং‌যোগে বসানো হবে মিটার। এছাড়া গোটা নেটওয়ার্কে মূল পাইপগুলিতে ২৫টি মিটার বসবে। ফলে পথে কতটা জল অপচয় হল তা সহজেই বোঝা ‌যাবে। ছ‍’ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।