কলকাতা, ৩০ নভেম্বর। ‌নোট বিরোধিতার নামে উত্তর প্রদেশ ও বিহার সফরে হালে ‌যে বিশেষ পানি মেলেনি তা কলকাতায় নেমেই বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের সরব হলেন তাঁকে ‘হত্যার ষড়‌যন্ত্র’‍ হয়েছে বলে। এবার চক্রান্তের অভি‌মুখ কেন্দ্রের দিকে। অভি‌যোগ, বুধবার সন্ধ্যায় দমদম বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য তাঁর বিমানকে অনুমতি দিচ্ছিল না এটিসি। সেজন্য প্রায় ৪০ মিনিট আকাশে চক্করকাটে বিমানটি।

বুধবার সন্ধ্যায় পটনা থেকে একটি ‌যাত্রীবাহী বিমানে কলকাতা ফেরেন মমতা। মমতার সহ‌যাত্রী ফিরহাদ হাকিম এবিপি আনন্দকে ফোনে জানান, ‘এমনিতেই দেরিতে উড়েছিল বিমান। কিন্তু কলকাতায় এসে অবতরণ করার আগে আকাশে চক্কর কাটতে থাকে সেটি। প্রায় ৪০ মিনিট কলকাতার আকাশে ওড়ার পর অবতরণ করে সেটি। অবতরণের সময় তাঁরা দেখতে পান রানওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে দমকল-সহ জরুরি পরিষেবার ‌যাবতীয় গাড়ি।’‍ তাঁর দাবি, ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

এর পরই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মমতা হত্যা করার ষড়‌যন্ত্রের তত্ত্বে সরব হন ফিরহাদ। তাঁর দাবি, ‘কেন্দ্রে নোট বাতিলের বিরোধিতায় অল আউট আক্রমণে নেমেছেন মমতা। তাই তাঁকে হত্যা করার চক্রান্ত হচ্ছে।’‍ এব্যাপারে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কথা বলেছেন বলে জানা গেলেও কোনও অভি‌যোগ দায়ের করেননি তিনি।

ওদিকে ফিরহাদ হাকিমের দাবি, ‘পাইলট বার বার অনুরোধ করা সত্বেও অবতরণের অনুমতি দিচ্ছিল না এটিসি। এমনকী বিমানে তেল কম আছে বলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, একথা জানালেও গা করেনি তারা।’‍

কিন্তু ফিরহাদের দাবির প্রেক্ষিতে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে

১. পাইলট এটিসির সঙ্গে কী কথা বললেন তা ‌যাত্রীদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। কারণ এটিসির সঙ্গে কথা বলার ও ‌যাত্রীদের কোনও বার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা বিমানে আলাদা। তাহলে ফিরহাদ কী করে জানলেন, পাইলট এটিসিকে কী কথা বলেছেন?

২. বিমানে ছোটখাটো সমস্যা থাকলে ‌তা সাধারণত ‌যাত্রীদের জানান না পাইলট। সেক্ষেত্রে তেল কম রয়েছে বলে বিমান দুর্ঘটনাগ্রস্ত হতে পারে এমন কথা ‌যাত্রীদের কোনও উন্মাদ পাইলটও জানাবেন না। কারণ তাতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন ‌যাত্রীরা।

৩. একমাত্র জরুরি অবতরণ অবধারিত হলে তবেই সেকথা ‌যাত্রীদের জানানো হয়। এবং সেজন্য নির্দিষ্ট নির্দেশ ‌যাত্রীদের দিয়ে থাকেন পাইলট। ‌যেমন, কোনও ক্ষেত্রে বিমানের ‌যাত্রীকক্ষের ভিতরের বায়ুচাপ কমে গেলে অক্সিজেন মুখোশ ‌যাত্রীদের পরে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনও কারণে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করতে হলে ‌যাত্রীদের সিটবেল্ট বেঁধে সামনের সিট দু’‍হাতে ধরে সামনের দিকে ঝুঁকে বসতে বলেন ‌যাত্রীদের। এভাবে বসলে ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা কমে। এক্ষেত্রে কি তেমন কোনও নির্দেশ দিয়েছিলেন পাইলট? ফিরহাদ সাহেব জানাননি। তাহলে কী করে তিনি বুঝলেন ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল?

৪. বিশ্বে সব থেকে বেশি বিমান দুর্ঘটনা ঘটে বিমান ওড়া ও অবতরণের সময়। ফলে নতুন আন্তর্জাতিক বিধি মেনে রানওয়ের পাশে সব সময় দমকল ও জরুরি পরিষেবার গাড়ি প্রস্তুত রাখতে হয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। সম্ভবত সেই গাড়ি দেখেই ঘাবড়ে গিয়েছেন মমতা ও তাঁর সঙ্গীরা।

 

মমতার অভি‌যোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। তাঁদের মতে, ‌’যখনই বেগতিকে পড়েন, ‘হত্যার ষড়‌যন্ত্র’‍-এর অভি‌যোগ তুলে মানুষের ভাবাবেগে শুড়শুড়ি দেওয়া শুরু করেন তৃণমূল নেত্রী। বিহার ও উত্তর প্রদেশে কলকে পাননি। তাই কলকাতা ফিরেই নিজের হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে জনতা এসব এখন বুঝতে শিখে গিয়েছে।’‍