হাওড়া, ২৯ নভেম্বর। দত্তক দেওয়ার নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আড়ালে শিশুবিক্রি রুখতে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে সরকার। পশ্চিমবঙ্গে এবার থেকে শিশু দত্তক নিতে গেলে ‌যেতে হবে পুলিশি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে। সরকারি চাকরি বা পাসপোর্ট তৈরির মতো শিশু দত্তক নেওয়ার সময়ও পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করতে আইন আনছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা।

এতদিন সন্তান দত্তক নেওয়ার জন্য পিতামাতার ‌যোগ্যতা নির্ধারণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও শিশুকল্যাণ দফতরের ওপর। অভি‌যোগ, নজরদারির অভাবে বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় চলছে শিশুবিক্রির মতো চরম বেআইনি কাজ। পুলিশি নজরদারির সু‌যোগ না-থাকায় বছরের পর বছর বছর জঘন্য কারবার চালিয়ে ‌যাচ্ছে তারা। এদের ধরতেই পুলিশ ভেরিফিকেশনের ফাঁদ পাতছে রাজ্য সরকার।

নতুন আইন অনু‌যায়ী, কাউকে শিশু দত্তক নিতে গেলে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ‌যেতে হবে। জেলা গোয়েন্দা বিভাগের কাছে জমা দিতে হবে ‌যাবতীয় নথি। সেই নথি খতিয়ে দেখে ওই ব্যক্তি দত্তক পাওয়ার ‌যোগ্য কি না তা সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে শিশু দত্তক নেওয়ার অনুমতি দেবে শিশুকল্যাণ বিভাগ।

এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সরকারি হোমগুলিতেও চলবে নিয়মিত নজরদারি। সপ্তাহে অন্তত একদিন সরেজমিনে নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।তবে প্রশ্ন উঠছে, বড়সড় দুর্নীতি ধরা পড়ার পর রাতারাতি এমন পদক্ষেপ তো কতই নেওয়া হয়। এর আসল মেয়াদ ক’‍দিন। নারী ও শিশুকল্যাণ বিভাগে কর্মীর সংখ্যা ‌যা তাতে কী করে সম্ভব প্রতি সপ্তাহে সমস্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও হোমে নজরদারি চালানো। আর চালানো গেলেও সেখানে আবার ঘুঘুর বাসা গড়ে উঠবে না তো?