১৭ জুলাই। একটা সময় ছিল ‌যখন B. Ed কলেজে পড়ার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতেন ছাত্রছাত্রীরা। উদ্দেশ্য একটাই শিক্ষকতা করা। কিন্তু গত দেড়-দুই বছরে বিএড কলেজে ছাত্রছাত্রীর ভর্তির হার কমেছে। প্রথম প‌র্যায়ের ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষের পর একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কলেজগুলিতে প্রায় ৫০ শতাংশের ওপর আসন ফাঁকা রয়ে গিয়েছে। পরেও ‌যে সেই আসনগুলি পূর্ণ হবে, সেব্যাপারেও নিশ্চিত নন কলেজ কর্তৃপক্ষরা। তবে কি শিক্ষকতায় আকর্ষণ হারিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা?  স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন শিক্ষামহল।

শিক্ষা খাতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি অব্যবস্থাপনার চিত্র এখন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি বা ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়া এখন প্রায়ই ‘ওপেন সিক্রেট’।বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে ঘুষ লেনদেন ও নানা অনিয়মের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা শিক্ষকতায় আসতে পারছেন না বলে অভি‌যোগ উঠছে বারবার। তারপরও থাকছে স্বজনপোষণের অভি‌যোগ। অনেকক্ষেত্রেই মেধাবী ও ‌যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক টানতে দলীয় বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভি‌যোগ।

আরও পড়ুনঃ বিধানসভার মধ্যেই দিলীপ ঘোষকে আঙুল উঁচিয়ে শাসানি তৃণমূল বিধায়কের, দেখুন ভিডিও

রয়েছে নানা আইনি জটিলতাও। কলকাতা হাইকোর্টে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে একাধিক মামলা চলেছে। সেসব মামলার নিষ্পত্তি কবে হবে? তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন সকলেই। বহু ক্ষেত্রে নিয়োগ আটকে ‌যাচ্ছে। কোথাও আবার চাকরিতে ‌যোগ দেওয়ার পরও কোনও কারণ না দেখিয়ে বরখাস্ত করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এই নিয়েও চলছে মামলা। অনেকেই বলছেন, এই আমলে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়।

আরও পড়ুনঃ নালিশ শুনছে না পুলিশ, তৃণমূলী গুণ্ডাদের দাপটে অতিষ্ঠ মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্বাস্তু মানুষগুলো

বিশেষজ্ঞমহলের দাবি, এত জটিলতার কারণে শিক্ষকতার পেশা থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে ‌যুব সমাজ। বেশিরভাগই অন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন। কারণ এই ধরনের আইনি জটিলতায় ‌যেমন চাকরিপ্রার্থীদের সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনই তাঁদের মনোবলও ভেঙে ‌যাচ্ছে। তাই বিএড কলেজগুলির আসন ফাঁকাই থেকে ‌যাচ্ছে।