ঢাকা, ১৯ জুন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত-বাংলাদেশ দ্বৈরথ নিয়ে দুদেশের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাক্যবাণের লড়াই চলেছিল। একে অপরকে পাল্টা বিঁধেছেন দুদেশের ক্রিকেটভক্তরা। তবে সেটা বোধহয় খেলার লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ। কারণ, বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসছেন ভারতে। বিশেষ করে কলকাতায়। এদেশে ইদের শপিং করছেন তাঁরা। বাংলাদেশের বাজারে এখন ভারচীয় পোশাকে ছয়লাপ। তা সত্ত্বেও সে দেশের নাগরিকদের ফেভারিট শপিং ডেস্টিনেশন এখনও ভারতই। বাংলাদেশি সংবাদপত্র বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন বলছে, ভারতে গিয়ে শপিংয়ের এ মনোভাব কেবল উচ্চবিত্তে নয়, মধ্যবিত্তকেও গ্রাস করেছে। প্রতিদিনই দেশের হাজার হাজার মানুষ ঈদ উপলক্ষে শপিং করতে ছুটছেন কলকাতার বিখ্যাত বিগ বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেটের উদ্দেশ্যে। এবার ঈদের কেনাকাটায় দেড় লাখেরও বেশি বাংলাদেশির ভারতে যাওয়ার কথা রয়েছে। (আরও পড়ুন- মেয়েদের অপহরণ করে বিয়ে, ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হিন্দু কাউন্সিল)

গত শুক্রবার বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় ইদের শপিং করতে এদেশে এসেছিলেন মুন্সিগঞ্জের আরাফাত আবেদীন। তিনি প্রায় লক্ষাধিক টাকার শপিং করে দেশে ফিরেছেন মঙ্গলবার। তাঁর কথায়, ‘ইন্ডিয়ার ট্যাগ লাগানো উপহার দেখলে পরিবারের সবাই খুশি হয়। নিজের বোন, বোনের স্বামী, বাবা-মা, বন্ধুদের জন্য কেনাকাটা করেছেন। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও এফবিসিসিআই-এর প্রাক্তন সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন, “বাংলাদেশের বাজার অনেক বড়। এদেশেই নামি-দামি সব ধরণের পোশাক পাওয়া যায়। তবুও ইদ আসলে মানুষ ছুটে যায় ভারতে।” গত রজমানের ঈদের শপিং করতে দেড় লাখেরও বেশি বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন।
ভারতীয় হাই-কমিশন গত বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ভিসা দিয়েছিল। গত বছরের চেয়ে এবার আরও বেশি মানুষ কেনাকাটা করতে আসবেন বলে জানা গিয়েছে। (আরও পড়ুন- পাকিস্তান আছে পাকিস্তানেই, জয়ের খুশিতে করাচিতে গুলিবর্ষণ, আহত ৬)
বাংলাদেশি সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেল ভারত থেকে ঈদের কেনাকাটা করেছেন। তিনি জানান, “কলকাতার নিউমার্কেট এলাকাসহ আশপাশের মার্কেটগুলোতে বাংলাদেশি ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। এখন প্রতিদিন গড়ে প্রায় পঁচিশ হাজার বাংলাদেশি ক্রেতা আসছেন শুধু নিউ মার্কেট চত্বরে। সংখ্যাটা দেড় লাখ থেকে দু’লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।” (আরও পড়ুন- ভারতে খেয়ে, থেকে পাকিস্তানের সমর্থনে বাজি ফাটানো হচ্ছে!)

এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন মনে করেন, কেনাকাটা করতে অন্যদেশে যাওয়া তখনই বন্ধ হবে, যখন দেশেই মানসম্মত পণ্য পাওয়া যাবে প্রতিযোগিতামূলক দামে। এমন অনেক পণ্য হয়ত আছে যেগুলো বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে গেলেও কিছুই করার নেই।(আরও পড়ুন- ভারতকে হারাতে টিম হোটেলেই বোনা হয়েছিল ষড়‌যন্ত্রের জাল!)